লক্ষ্মীবারে আচমকাই বড় ধাক্কা খেল হলুদ ধাতুর বাজার, একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেল সোনার দাম, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজার থেকে বড় গয়নার দোকান পর্যন্ত সর্বত্র। বহুদিন পর এই ধরনের দরপতনে স্বস্তির মুখ দেখছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে যাঁরা আসন্ন বিয়ের মরসুম বা উৎসবের আগে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। বাজারে ইতিমধ্যেই ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে বলে খবর, অনেকেই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের নরম প্রবণতা, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।এদিন কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ২৪ ক্যারেট এবং ২২ ক্যারেট—উভয় ধরনের সোনার দামেই স্পষ্ট পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী, ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে নেমে এসেছে প্রায় ৬৫,০০০ টাকার কাছাকাছি, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে ১ ভরি (প্রায় ১১.৬৬ গ্রাম) খাঁটি সোনার দাম দাঁড়াচ্ছে আনুমানিক ৭৫,০০০ টাকার আশেপাশে। অন্যদিকে, ২২ ক্যারেট গয়নার সোনার দামও কমে প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ৫৯,৫০০ টাকার ঘরে নেমেছে, যার ফলে ১ ভরি গয়নার দাম বর্তমানে প্রায় ৬৯,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। খুচরো বাজারে এই পতনের প্রভাব আরও বেশি চোখে পড়ছে, কারণ অনেক দোকানেই মেকিং চার্জ বা অফারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার বা অন্যান্য সম্পদে ঝুঁকছেন, যার ফলে সোনার দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তনের জল্পনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দাম কমে, কারণ তখন আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদা হ্রাস পায়—এই পরিচিত অর্থনৈতিক সমীকরণই এদিনও কার্যকর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।এছাড়াও, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপাতত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি ঝোঁক কিছুটা কমেছে। ফলে বড় বিনিয়োগকারীদের বিক্রি বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যা দামের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাহিদা কিছুটা মন্থর ছিল, যা এই পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তবে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই পতন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, হঠাৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা বড় কোনও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে খুব দ্রুতই আবার সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তাই যারা সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা যথেষ্ট লাভজনক সুযোগ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গয়নার দোকানগুলিতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে, ব্যবসায়ীরাও আশাবাদী—দাম কমার এই সুযোগে আগামী কয়েক দিনে বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে এবং বাজারে নতুন করে চাঙাভাব ফিরতে পারে।