ভোটের একেবারে প্রাক্কালে বড়সড় অস্বস্তির মুখে পড়ল শাসকদল All India Trinamool Congress। দলের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত বিধায়কের আকস্মিক দলত্যাগের ঘোষণায় রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোড়ন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের ভিত মজবুত রাখতে যাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য, তাঁর এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে হতবাক রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তৃণমূলের তৃণমূলস্তরের কর্মীরাও। ভোটের মুখে এই ঘটনা যে দলের জন্য বড় ধাক্কা, তা মানতে শুরু করেছে দলের একাংশও।সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরেই ওই বিধায়কের সঙ্গে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। একাধিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল বলেই জানা যাচ্ছে। তিনি বারবার নিজের মতামত তুলে ধরলেও তা গুরুত্ব পায়নি—এমন অভিযোগও উঠেছে। এই মতবিরোধ ধীরে ধীরে তীব্র আকার নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা অসন্তোষের বিস্ফোরণে পরিণত হয়ে দলত্যাগের সিদ্ধান্তে পৌঁছয়।দল ছাড়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওই বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “দলের ভেতরে থেকে আর মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বহুবার নিজের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি।” তাঁর এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ এবং বঞ্চনার অনুভূতিই এই নাটকীয় সিদ্ধান্তের পেছনে মূল চালিকাশক্তি। শুধু দলত্যাগেই থেমে থাকেননি তিনি—সূত্রের দাবি, খুব শিগগিরই তিনি বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।অন্যদিকে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইছে না। দলের তরফে প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, “দলে আসা-যাওয়া লেগেই থাকে, এতে সংগঠনের শক্তিতে কোনও প্রভাব পড়বে না।” তবে দলীয় অন্দরের খবর বলছে, নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনায় কিছুটা হতাশা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যে বিধায়ক দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সংগঠন সামলেছেন, তাঁর বিদায় যে সহজে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না, তা স্পষ্ট।এদিকে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ওই বিধায়ককে নিজেদের দলে টানার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দলের তরফে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি যদি বিরোধী শিবিরে যোগ দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ভোটের অঙ্কে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এবং জনসংযোগ ক্ষমতা ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি এখনও স্পষ্ট করে জানাননি, ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন।বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের দলত্যাগ শাসকদলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এতে একদিকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামনে আসে, তেমনই বিরোধীদের হাতে নতুন ইস্যু তুলে দেয়। ভোটের আবহ যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, এই দাপুটে বিধায়কের দলত্যাগ শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং তা বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে। আগামী দিনে তিনি কোন দলে যোগ দেন, আদৌ নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কিনা এবং তার প্রভাব কতটা পড়ে আসন্ন নির্বাচনে—এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতি।