ভোটের মুখে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিল Election Commission of India। এক ধাক্কায় বাংলার ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে ভিনরাজ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে কার্যত রাজ্য সরকারের পুনর্বহাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কমিশন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ ভোটের আগে এমন বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল সাধারণত গভীর বার্তা বহন করে।সূত্রের খবর, নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চালাচ্ছিল কমিশন। একাধিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে, নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা প্রভাবিত হয়ে কাজ করার অভিযোগের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একাধিক জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা উচ্চপদস্থ অফিসারও রয়েছেন।কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সেই কারণেই আগেভাগে প্রশাসনিক বদলি করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। কমিশন মনে করছে, এই পদক্ষেপ ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।এদিকে রাজ্য প্রশাসনের তরফে কয়েকজন অফিসারকে পুনর্বহাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কমিশন সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেয় এবং জানিয়ে দেয়, নির্বাচন চলাকালীন সমস্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে। ফলে নবান্নের উদ্যোগ কার্যত ব্যর্থ হয় এবং পুনর্বহালের সম্ভাবনা বন্ধ হয়ে যায়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসক দলের অভিযোগ, কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করছে এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ এবং এর ফলে ভোট আরও অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এমন বড়সড় পুলিশি রদবদল রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে মাঠপর্যায়ের কৌশল, বুথ ম্যানেজমেন্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল জেলাগুলিতে নতুন অফিসারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আগামী দিনেও আরও কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিতকরণ, ওয়েবকাস্টিং এবং নজরদারি বাড়ানোর মতো একাধিক পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে কড়া বার্তা দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন—কোনওভাবেই যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই এই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা ।