জ্বালানি সংকটের ছায়া বিশ্বজুড়ে: রেশনিং থেকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম—চাপ বাড়ছে, ভারতের সামনে কী বড় সিদ্ধান্ত?

By,
Admin

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, আর সেই চাপ সামলাতে একের পর এক দেশ কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে; কোথাও ডিজেল-পেট্রলের উপর রেশনিং চালু হয়েছে, কোথাও আবার সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যাতায়াত কমে এবং জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, ইউরোপের একাধিক দেশে নির্দিষ্ট দিন অনুযায়ী গাড়ি চালানোর উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে—যেখানে গাড়ির নম্বরের শেষ সংখ্যার ভিত্তিতে রাস্তায় নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি অফিসের সময়সীমা কমানো, হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল চালু করা, এমনকি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে; বহু দেশেই নাগরিকদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনাও চালু করা হয়েছে, মূল লক্ষ্য একটাই—জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে মজুত ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংকট সামাল দেওয়া।বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, এবং বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী; বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া ইস্যু ঘিরে অনিশ্চয়তা জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব ফেলছে, ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলির অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে; একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যাও বহু দেশে সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে, ফলে সরকারগুলোকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যাতে জ্বালানি সংরক্ষণ করা যায় এবং জরুরি পরিষেবাগুলিকে সচল রাখা যায়।এই প্রেক্ষাপটে ভারতের দিকে নজর ঘুরেছে সকলের; এখনও পর্যন্ত দেশে ডিজেল বা পেট্রলে রেশনিং চালুর কোনও ঘোষণা হয়নি, কিংবা বাধ্যতামূলক ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশও জারি হয়নি, তবে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের উপর জোর বাড়িয়েছে; বিদ্যুৎ অপচয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করা এবং বিকল্প শক্তি—যেমন সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে যাতে দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানির অপচয় কমানো যায়; শিল্পক্ষেত্রেও দক্ষ জ্বালানি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং বড় বড় সংস্থাগুলিকে শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।তবে অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আপাতত ভারতের জ্বালানি মজুত ও আমদানি নীতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো শক্তিশালী থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা এলে ভবিষ্যতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না; সেক্ষেত্রে আংশিক রেশনিং, নির্দিষ্ট খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা, অফিসে হাইব্রিড বা ওয়ার্ক ফ্রম হোম মডেল চালু করা, এমনকি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করা হতে পারে; সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে, বিশ্ব যখন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে, তখন ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে অর্থনৈতিক গতি বজায় রেখে জ্বালানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়; আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না, ফলে সময়মতো পরিকল্পনা এবং সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন ।

সাম্প্রতিক খবর
পাণ্ডবেশ্বর-দুবরাজপুরে জোড়া জনসভায় মমতার ঝড়, উন্নয়ন বনাম বিভাজনের বার্তায় চড়ল নির্বাচনী পারদ
তিনশো বছরের ঐতিহ্য, ভিন্ন প্রতিমা আর মাছ ভোগে নজর কাড়ছে রাজপুরের বাসন্তী পুজো
অজানা রাসায়নিক ভর্তি জারে আগুন, বর্ধমান-কাটোয়া সড়কের ধারে আতঙ্ক
সূর্যের মেষে প্রবেশে বদলাবে ভাগ্যচক্র! প্রমোশন, বেতনবৃদ্ধি ও সাফল্যের জোয়ার—এই ৪ রাশির জীবনে বড় মোড়