জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে সম্প্রীতির সুর, ঘাটালের মঞ্চে দেবের স্পষ্ট বার্তা—“ধর্ম নয়, মানুষই আগে”

By,
Admin

ঘাটালের জনসমাগমে ভরা এক অনুষ্ঠান যেন মুহূর্তেই পরিণত হল আবেগ, বিতর্ক এবং বার্তার এক বিরল মেলবন্ধনে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা-সাংসদ Dev (দেব)। মঞ্চে উঠে তিনি যখন ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি উচ্চারণ করেন, তখন তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্লোগান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি—বরং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনতার কণ্ঠে, তৈরি করে এক প্রবল আবেগঘন পরিবেশ। তবে এই মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল একটি বৃহত্তর বার্তা, যা দেব নিজেই পরে স্পষ্ট করে দেন—উৎসব মানে একতা, উৎসব মানে মিলন, আর সেটিকে কোনওভাবেই রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার করা উচিত নয়।বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেব অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বলেন, “ধর্ম ব্যক্তিগত হতে পারে, কিন্তু উৎসব সবার। সেখানে যদি রাজনীতি ঢুকে পড়ে, তাহলে সেই আনন্দ আর থাকে না।” তাঁর এই মন্তব্যে যেমন উপস্থিত জনতার একাংশ হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান, তেমনই অন্য একটি অংশ বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করতে শুরু করে। কিন্তু এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মাঝেই দেব নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন—তিনি কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মেরুকরণের পক্ষে নন, বরং তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।বাংলার সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই মাটি বহুদিন ধরেই বহুত্ববাদ ও সহিষ্ণুতার প্রতীক। “এখানে Durga Puja যেমন সবার, তেমনই Eid বা Christmas-ও সবার। এই ঐতিহ্যকে ভেঙে যদি আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি, তাহলে সেটা আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই যাবে,”—এই মন্তব্যে তিনি কার্যত বাংলার সামাজিক ঐক্যের দীর্ঘ ইতিহাসের দিকেই ইঙ্গিত করেন।দেব আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ আজ ধর্মীয় বিতর্কের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাস্তব সমস্যাগুলিকে—যেমন কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন। তাঁর কথায়, “মানুষের সমস্যা সমাধান করাই রাজনীতির কাজ, ধর্ম নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি করা নয়।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়ার প্রতিফলন রয়েছে, তেমনই রয়েছে রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের ওপর সরাসরি প্রশ্ন।এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশ দেবের বক্তব্যকে ‘দ্ব্যর্থবোধক’ বলে কটাক্ষ করলেও, তাঁর সমর্থকরা এটিকে সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় বার্তা হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় ও স্লোগানকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, তখন ঘাটাল থেকে দেওয়া এই বার্তা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।সমালোচনার জবাবে দেব অবশ্য কোনও রকম পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেননি। বরং তিনি আরও একবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনও পক্ষের হয়ে কথা বলছি না, আমি মানুষের হয়ে কথা বলছি।” তাঁর এই সংযত অবস্থান অনেকের কাছেই ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে, কারণ এতে সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।অনুষ্ঠানের ফাঁকেই দেব স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি—এই দুই একে অপরের পরিপূরক। “যেখানে সম্প্রীতি থাকবে না, সেখানে উন্নয়নও টেকসই হবে না,”—এই মন্তব্যে তিনি সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাকে নতুনভাবে তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের শেষে আবারও একবার ঐক্যের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ ও সমাজ সবার।” তাঁর এই আহ্বানে উপস্থিত জনতার মধ্যে একধরনের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে বিভাজনের মাঝেও মানুষ এখনও ঐক্যের বার্তাকেই গুরুত্ব দিতে চায়।সব মিলিয়ে, ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে ঘাটাল থেকে দেব যে বার্তা দিলেন, তা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়—বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। উৎসবকে উৎসব হিসেবেই দেখা হোক, তা যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব নয়, বরং সম্পর্কের সেতু তৈরি করে—আর সেই আনন্দে রাজনীতির ছায়া না পড়াই হোক ভবিষ্যতের লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক খবর
তালসারি বিচে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণ
ক্যান্সার রুখতে নিম? গবেষণার রিপোর্টে নতুন চাঞ্চল্য
No Kings’ আন্দোলনে বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে আমেরিকাজুড়ে তৃতীয় দফায় বৃহত্তম বিক্ষোভ
উত্তরবঙ্গে দমকা হাওয়া-বৃষ্টি, দক্ষিণে বাড়ছে গরমের অস্বস্তি