অভিনয়ের জগতে নিজেকে বারবার নতুনভাবে প্রমাণ করতে পরিচিত অভিনেত্রী শ্রেয়া সেনগুপ্ত এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন তাঁর আসন্ন ছবি জ্যাজ সিটি-র জন্য। এই ছবিতে তাঁর চরিত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে রান্নার জগৎ, আর সেই কারণেই শুধু স্ক্রিপ্ট পড়ে বা অভিনয়ের রিহার্সালেই থেমে থাকেননি তিনি—বরং বাস্তবেই ঢুকে পড়েছেন রান্নাঘরে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে শ্রেয়া জানান, “চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গেলে তার জীবনযাত্রা, অভ্যাস—সব কিছু নিজের মধ্যে নিতে হয়। এই ছবির জন্য আমি সত্যিই রান্না শিখেছি, শুধু অভিনয়ের খাতিরে নয়, চরিত্রটাকে বাঁচানোর জন্য।”শুরুটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। আগে কখনও নিয়মিত রান্না না করায় প্রথমদিকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। তবে ধীরে ধীরে সেই কঠিন কাজই হয়ে ওঠে তাঁর নতুন ভালোবাসা। কাটাকুটি থেকে শুরু করে মশলার সঠিক মাপ, রান্নার সময়ের হিসাব—সব কিছুতেই নিজেকে দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরি করার প্র্যাকটিসও করেছেন নিয়মিত, যাতে ক্যামেরার সামনে কোনও কৃত্রিমতা না থাকে। ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, শুটিং চলাকালীন বাস্তবিকভাবেই রান্না করতে দেখা গেছে শ্রেয়াকে, যা গোটা টিমকে মুগ্ধ করেছে।পরিচালক ও নির্মাতাদের মতে, এই ধরনের ডেডিকেশনই একজন অভিনেত্রীকে আলাদা করে তোলে। তাঁদের কথায়, “শ্রেয়া শুধু অভিনয় করেননি, চরিত্রটাকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। দর্শকরা যখন ছবিটি দেখবেন, তখন এই পরিশ্রম স্পষ্ট বোঝা যাবে।” শুধু রান্নাই নয়, নিজের লুক, শরীরী ভাষা এবং দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়েও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। চরিত্রের সঙ্গে মানানসই ভাবভঙ্গি আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময় ধরে রিহার্সাল করেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।শ্রেয়ার কথায়, এই পুরো অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। “এই ছবির জন্য যা শিখলাম, তা শুধু কাজেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও কাজে লাগবে। এখন অন্তত নিজের জন্য রান্না করতে পারি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া,”—হাসতে হাসতেই বলেন তিনি।সব মিলিয়ে, জ্যাজ সিটি-তে শ্রেয়ার এই নতুন রূপ কতটা দর্শকের মন জয় করে, সেটাই এখন দেখার। তবে ছবির মুক্তির আগেই তাঁর এই নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং চরিত্রে ডুবে যাওয়ার মানসিকতা ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রশংসার ঝড় তুলেছে।