জানুয়ারির শেষ দিকে এসে দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক পরিষেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সম্ভাব্য ধর্মঘট ঘিরে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনের পথে যেতে পারেন কর্মীরা। আলোচনা যদি শেষ মুহূর্তে ফলপ্রসূ না হয়, তাহলে টানা কয়েক দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এর প্রভাব পড়তে পারে দৈনন্দিন লেনদেন থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক কাজকর্মে।ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের একাধিক সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। কর্মীস্বার্থ সুরক্ষা, কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত নিয়োগের অভাব এবং পরিষেবা কাঠামোর নানা দিক নিয়ে অসন্তোষ জমেছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে আন্দোলনের সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।এই পরিস্থিতিতে ধর্মঘট হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন সাধারণ গ্রাহকরা। ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে নগদ তোলা বা জমা, চেক ক্লিয়ারিং, ডিমান্ড ড্রাফট, পাসবুক আপডেটের মতো কাজ ব্যাহত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধও হয়ে যেতে পারে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি উদ্বেগের কারণ, কারণ দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।যদিও এটিএম, অনলাইন ব্যাঙ্কিং এবং ইউপিআই পরিষেবা সচল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবু নগদ সরবরাহ বা ব্যাকএন্ড পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিলে সেখানেও চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মঘট চললে এটিএমে নগদের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে বলে জানা যাচ্ছে। গ্রাহকদের আগেভাগেই প্রয়োজনীয় লেনদেন সেরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কাজ, বিল পরিশোধ বা বড় অঙ্কের লেনদেন থাকলে তা আগে সম্পন্ন করাই নিরাপদ।সব মিলিয়ে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অস্থিরতার আশঙ্কা স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত আলোচনা কোন দিকে গড়ায়, তার উপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। ততদিন পর্যন্ত গ্রাহকদের সচেতন ও প্রস্তুত থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।