সরস্বতী পুজো মানেই বিদ্যার দেবীর আরাধনার সঙ্গে বসন্তের আগমনের আনন্দ। সাদা-হলুদের সাজ, বই-খাতা হাতে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়, ভোরের কুয়াশা আর মিষ্টি ঠান্ডা—এই সব মিলিয়েই সরস্বতী পুজোর আবহ বরাবরই আলাদা। তবে চলতি বছরে এই পুজোর সময় শীত ঠিক কতটা অনুভূত হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাঘ মাসের শুরুতেই আবহাওয়ার চরিত্রে ফের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে একাধিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হওয়ার ফলে সেখানকার ঠান্ডা ও শুষ্ক হাওয়া ধীরে ধীরে পূর্ব ভারতের দিকে এগিয়ে আসতে পারে। এর প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। ফলে শীত পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগে শেষবারের মতো তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে।কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরস্বতী পুজোর আগে ও পরে ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যেতে পারে। সকালের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়লেও দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং রোদের দেখা মিলবে। তবে রোদের তেজ খুব বেশি না হওয়ায় সকাল ও সন্ধ্যার দিকে হালকা শীত বজায় থাকতে পারে। শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলে এই ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বেশি হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু অংশে সকালের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নীচে নামতে পারে। পাহাড়ি হাওয়ার প্রভাবে সেখানে শীতের আমেজ আরও জোরালো হতে পারে, যদিও দিনের বেলায় রোদ উঠলে ঠান্ডা কিছুটা কমবে।স্বস্তির বিষয় হলো, সরস্বতী পুজোর সময় আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনার কথা জানানো হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে পুজো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা স্কুল-কলেজের আয়োজন নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন করা যাবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবছর সরস্বতী পুজোয় বসন্তের প্রথম ছোঁয়ার সঙ্গে শীতের শেষ কামব্যাক উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।