শেয়ার বাজারে নতুন করের কড়া ধাক্কা! STT বাড়তেই চাপে বিনিয়োগকারীরা, অনিশ্চয়তায় বাজারের ভবিষ্যৎ

By,
Admin

দেশের শেয়ার বাজারে আজ থেকে কার্যকর হল নতুন কর সংক্রান্ত বিধি, আর তার জেরেই কার্যত চাপে পড়লেন লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হতেই শেয়ার কেনাবেচা থেকে শুরু করে ডেরিভেটিভস ও ইন্ট্রাডে লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে গেল এক ধাক্কায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজার খোলার প্রথম ঘণ্টা থেকেই। BSE Sensex এবং Nifty 50-এর অধীনে থাকা বহু শেয়ারে দোদুল্যমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।নতুন কর কাঠামো চালুর পরেই লেনদেনের পরিমাণে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রেডিং ভলিউমে মন্দাভাব দেখা যায়, বিশেষ করে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যেতে শুরু করে। অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে ওঠার জন্য আপাতত বড় বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কর বৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মানসিকতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন স্বল্পমেয়াদি ট্রেডাররা। যারা প্রতিদিন একাধিক ট্রেড করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনে অতিরিক্ত কর যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক লাভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডেরিভেটিভস সেগমেন্টে, যেখানে অল্প মার্জিনে বেশি লেনদেন করা হয়, সেখানে এই পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অপশন ও ফিউচার ট্রেডিং করা বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই তাঁদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, আগের তুলনায় এখন লাভের সুযোগ কমে যাবে এবং ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাবে।ইন্ট্রাডে ট্রেডিং-এর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত লাভের আশায় যারা ট্রেড করেন, তাঁদের জন্য এই অতিরিক্ত কর কার্যত বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, প্রতিটি লেনদেনে করের বোঝা যুক্ত হওয়ায় ছোট ছোট লাভ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে। ফলে বহু ট্রেডার এখন ট্রেডের সংখ্যা কমানো বা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন।অন্যদিকে, সরকারের দাবি এই সিদ্ধান্ত বাজারে অতিরিক্ত জল্পনামূলক লেনদেন কমাতে সাহায্য করবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রকের একাংশের মতে, বাজারকে আরও স্থিতিশীল ও স্বাস্থ্যকর করতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল।তবে বিরোধী শিবির ও বাজারের একাংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কর বৃদ্ধি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এর ফলে বাজারে অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তারল্য সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন বা ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।ব্রোকারেজ সংস্থা ও আর্থিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছেন। তাঁদের পরামর্শ, এই পরিস্থিতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে হিসেব করে বিনিয়োগ করা উচিত। বাজারের ওঠানামা ও কর কাঠামোর পরিবর্তন মাথায় রেখে নিজের বিনিয়োগ কৌশল নতুন করে সাজানো জরুরি। স্বল্পমেয়াদি লাভের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে ঝোঁক বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে নতুন STT বৃদ্ধিকে ঘিরে শেয়ার বাজারে তৈরি হয়েছে চাপা উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। প্রাথমিকভাবে বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন বাজারের গতিবিধি, সরকারি নীতির পরবর্তী পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর। কারণ এই সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই ঠিক হবে দেশের শেয়ার বাজারের আগামী দিনের দিশা।

সাম্প্রতিক খবর
মুম্বইয়ে বাংলো ভাড়া দিলেন সারা আলি খান, জানালেন খরচের পরিমাণ
শুটিং ফ্লোরে অঘটন! ‘কুসুম’-এর হাত-মুখ পুড়ে যাওয়ার ঘটনা, জানালেন তনিষ্কার মা
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন লারা দত্ত, জীবনের যুদ্ধের রোমহর্ষক কাহিনি
হৃতিক-সুজ়ানের বিচ্ছেদ কি অবশ্যম্ভাবী ছিল? জায়েদ খানের নতুন মুখখোলা