কাজের সন্ধানে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তারই নির্মম প্রমাণ মিলল ভূমধ্যসাগরের বুকে। গ্রিসে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি অবৈধ অভিবাসী নৌকায় অনাহার, তৃষ্ণা ও চরম অবহেলার কারণে মৃত্যু হল অন্তত ২২ জনের। মৃতদের মধ্যে ১২ জনই বাংলাদেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল নৌকাটি। দালালচক্রের মাধ্যমে বিপুল অর্থ খরচ করে এই বিপজ্জনক যাত্রায় শামিল হয়েছিলেন বহু তরুণ। তাদের লক্ষ্য ছিল গ্রিস হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে কাজের সন্ধান করা। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে পড়ে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।অভিযোগ, নৌকায় পর্যাপ্ত খাবার বা পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না। দিন পেরোতেই শুরু হয় চরম সংকট। অসুস্থতা, অনাহার ও তৃষ্ণায় একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে মৃতদেহগুলো সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় বলে দাবি জীবিত উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের।গ্রিস উপকূলরক্ষী বাহিনী একটি ভাসমান নৌকা থেকে জীবিতদের উদ্ধার করে। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বয়ানেই উঠে এসেছে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত। ইতিমধ্যেই মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে। উন্নত জীবনের আশায় জীবন বাজি রেখে এমন বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে সচেতনতা ও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।