ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে নতুন করে তীব্র কৌতূহল এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় মন্দির চত্বরের নিচে প্রাচীন বসতি ও স্থাপত্যের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, যা ইতিহাসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, আইআইটি গান্ধীনগরের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার (GPR) প্রযুক্তির সাহায্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির নিচে থাকা বিভিন্ন কাঠামো ও বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, খনন না করেই।
সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, জগন্নাথ মন্দিরের নিচে এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২১.৬ বর্গমিটার জুড়ে প্রাচীন স্থাপত্যের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা, এই ধ্বংসাবশেষ মন্দির নির্মাণের পূর্ববর্তী সময়ের অথবা নির্মাণকালীন কোনও সময়ের হতে পারে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হল, মাটির নিচে একটি সম্ভাব্য সুড়ঙ্গের অস্তিত্বের ইঙ্গিত মিলেছে, যা সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি, তবুও এই সম্ভাবনা ঘিরে ইতিমধ্যেই গবেষক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এই আবিষ্কারের সূত্রপাত ঘটে ‘শ্রীমন্দির পরিক্রমা প্রকল্প’-এর কাজ চলাকালীন। সেই সময় খননের মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি প্রাচীন সিংহমূর্তি উদ্ধার হয়, যা গোটা বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপরই ওড়িশা সরকারের তরফে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিস্তারিত GPR সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সমীক্ষার সময় মাটির নিচ থেকে বিভিন্ন ধাতব বস্তু, মাটির পাত্র এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছে। এই সব নিদর্শন থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ওই এলাকায় একসময় মানুষের বসবাস ছিল এবং তা একটি সুসংগঠিত জনপদ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই আবিষ্কার আরও গবেষণায় প্রমাণিত হয়, তাহলে পুরীর ইতিহাস ও জগন্নাথ মন্দিরের উৎপত্তি সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। এটি প্রাচীন ভারতীয় নগর সভ্যতা ও উপকূলীয় বসতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।
বর্তমানে এই নিয়ে আরও বিশদ গবেষণা ও বিশ্লেষণ চলছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিজ্ঞানীরা পরবর্তী ধাপে আরও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।