ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ, আর সেই প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল Election Commission of India ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন, ইতিমধ্যেই মোতায়েন থাকা বিপুল বাহিনীর পাশাপাশি আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বৃহত্তম নিরাপত্তা মোতায়েন হিসেবে দেখা হচ্ছে, প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই বাহিনীকে ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অতিসংবেদনশীল বুথগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে, যেখানে অতীতে অশান্তি বা ভোট-সংক্রান্ত অভিযোগের ইতিহাস রয়েছে।ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় শুরু হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দৃশ্যমান হচ্ছে ফ্ল্যাগ মার্চ, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়ানো এবং ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলার বার্তা স্পষ্ট করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বুথভিত্তিক সশস্ত্র মোতায়েন, লাইভ সিসিটিভি নজরদারি, ড্রোন পর্যবেক্ষণ এবং কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখার মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা ও আন্তঃজেলা চেকপোস্টগুলিতে তল্লাশি আরও কড়া করা হয়েছে যাতে বেআইনি অস্ত্র, নগদ বা প্রভাব বিস্তারের উপকরণ ঢুকতে না পারে।নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করাতে কোনওরকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না, প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে, এমনকি ভোটের দিন ও তার আগে-পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল আরও বাড়ানো হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে, কমিশনের নজরে রয়েছে প্রতিটি স্পর্শকাতর বুথ, যেখানে অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয়, মাইক্রো অবজারভার এবং ভিডিও রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।অন্যদিকে এই বিপুল বাহিনী মোতায়েন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে আসছিল এবং তাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত ভোটে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তাদের মতে, অতীতে যেসব জায়গায় ভোটকে কেন্দ্র করে হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে এই বাহিনীই হবে সবচেয়ে বড় ভরসা।তবে শাসক শিবিরের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন, Mamata Banerjee-র নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, যা ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে, শাসক দলের অভিযোগ, এই ধরনের ‘অতিরিক্ত’ নিরাপত্তা আসলে ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু সংখ্যার লড়াই নয়, বরং প্রভাব, সংগঠন এবং জনমতের এক বড় পরীক্ষা, তাই নিরাপত্তা নিয়ে কোনও পক্ষই আপস করতে রাজি নয়, ইতিমধ্যেই গ্রাউন্ড লেভেলে প্রশাসন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে যাতে ভোটের দিন কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে ভুয়ো খবর বা উস্কানিমূলক প্রচার ঠেকাতে।সব মিলিয়ে, রাজ্যে ভোটকে ঘিরে একদিকে যেমন শক্তিশালী হচ্ছে নিরাপত্তার বলয়, তেমনই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও পারস্পরিক অভিযোগের ঝড়, এখন গোটা রাজ্যের নজর একটাই—এই কড়া নিরাপত্তার ছাতার নিচে কতটা শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয় গণতন্ত্রের এই বৃহত্তম উৎসব।