দেশজুড়ে যখন তামাকবিরোধী সচেতনতা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে, ঠিক সেই সময় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়ে সামনে এল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য Meghalaya, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে সমস্ত স্কুল, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত ঘোষণা করে কার্যত গোটা দেশের সামনে এক অনুকরণীয় মডেল তৈরি করল এই রাজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চৌহদ্দির মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার তো বটেই, বিক্রি, মজুত কিংবা প্রচার—সবকিছুর ওপরই জারি হয়েছে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, এমনকি নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যেও তামাক বিক্রি বন্ধ রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে যাতে কোনওভাবেই পড়ুয়ারা এর সংস্পর্শে না আসে।রাজ্য প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সাফল্য কোনও হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত উদ্যোগ, যেখানে ধাপে ধাপে সচেতনতা বাড়ানো, আইন কঠোর করা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, স্কুল ও কলেজগুলিতে নিয়মিত কর্মশালা, সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, বিশেষ ক্লাস এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব, নেশার ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, শুধু পড়ুয়াদের নয়, এই প্রচারে যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদেরও, ফলে একটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে এই উদ্যোগ।শুধু সচেতনতা নয়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কোনও ঢিলেমি রাখা হয়নি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, কোথাও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল, এমনকি আইনি পদক্ষেপের কথাও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাক বিক্রির প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং ধীরে ধীরে এক সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত পরিবেশ বাস্তব রূপ পাচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর, কারণ তামাক ব্যবহার থেকেই সৃষ্টি হয় বহু মারাত্মক রোগ—বিশেষ করে Cancer, হৃদরোগ এবং ফুসফুসজনিত জটিলতা, অল্প বয়সে নেশার অভ্যাস গড়ে উঠলে তার প্রভাব পড়ে পড়াশোনা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ জীবনে, তাই শিক্ষাঙ্গন থেকেই যদি এই প্রবণতাকে রুখে দেওয়া যায়, তবে একটি সুস্থ প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভব, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, Meghalaya-এর এই পদক্ষেপ দেশের জনস্বাস্থ্য নীতিতেও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নজর কেড়েছে, বহু রাজ্য প্রশাসন এই মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে খবর, বিশেষ করে স্কুল ও কলেজকে কেন্দ্র করে এমন কড়া তামাকবিরোধী নীতি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োগ করা হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা, কারণ তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করেই তামাক শিল্প তাদের বাজার বাড়াতে চায়, আর সেই জায়গাতেই এই পদক্ষেপ বড় ধাক্কা দিতে পারে।ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত মূল্যায়ন, নতুন সচেতনতা কর্মসূচি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে, যাতে তারা বিকল্প ইতিবাচক জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে এবং কোনওভাবেই নেশার দিকে ঝুঁকে না পড়ে।সব মিলিয়ে, তামাকবিরোধী লড়াইয়ে Meghalaya-এর এই পদক্ষেপ এক নতুন মাইলফলক হিসেবে উঠে এসেছে, যা শুধু প্রশাসনিক সাফল্য নয়, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত পরিবর্তনের এক শক্তিশালী বার্তা, দেশের মধ্যে প্রথম হয়ে যে নজির তৈরি করল এই রাজ্য, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, এবং এই পথ অনুসরণ করেই আগামী দিনে গোটা দেশ তামাকমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে।