বলিউডের ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স নিয়ে নতুন করে গরম আলোচনার সূচনা করেছেন Deepika Padukone। জানা যাচ্ছে, তিনি এবার থেকে দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না—এই শর্ত তিনি স্পষ্টভাবে প্রযোজকদের সামনে রেখেছেন। দীর্ঘদিন টানা শুটিং, রাতভর কাজ, ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে দীপিকা এখন শুটিং সময়সূচি, কল টাইম এবং বিশ্রামের ব্যবধান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন।এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বলিউডে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, দীপিকার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ বড় বাজেটের ছবিতে দিনের পর দিন ১২-১৪ ঘণ্টা শুটিং প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু প্রযোজক শঙ্কা প্রকাশ করছেন, এত কড়া সময়সীমা মানলে শুটিংয়ের দিন বাড়বে, ফলে খরচও বেড়ে যেতে পারে।ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনায় উঠে এসেছে Emraan Hashmi-র কাজের অভিজ্ঞতা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রযোজকদের বাজেট বাঁচাতে তিনি দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা শুটিং করতেন। একদিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য শেষ করে তাঁকে অনেক সময় লোকেশন ভাড়া, লাইটিং, ক্যামেরা সেটআপ ও ইউনিট খরচ কমানোর জন্য প্রশংসা করা হতো।কিন্তু এখন সময় বদলেছে। অনেক অভিনেতাই ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় কাজ করলে উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে, ক্লান্তি ও ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে। সেই দিক থেকে দীপিকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রবণতা ভবিষ্যতে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।সব মিলিয়ে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার ইমরান ও ৮ ঘণ্টার শর্তে দীপিকা—দুটি ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন মানসিকতার প্রতিফলন। একদিকে প্রযোজনার খরচ ও সময় বাঁচানোর তাগিদ, অন্যদিকে শিল্পীদের সুস্থতা ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্ব—এই ভারসাম্যই এখন বলিউডের বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে এবং অন্য তারকারাও কি এই পথে হাঁটবেন, সেটাই এখন দেখার।