আর বুকিংয়ের ঝামেলা, ডেলিভারির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা কিংবা গ্যাস এজেন্সির সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার দিন শেষ হতে চলেছে, কারণ সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দেশে ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে অত্যাধুনিক এলপিজি এটিএম পরিষেবা, যার মাধ্যমে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করা যাবে একেবারে এটিএম মেশিন ব্যবহারের মতো সহজ প্রক্রিয়ায়, ফলে রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে গেলেই আর দুশ্চিন্তা নয়—যে কোনও সময় কাছাকাছি এটিএম ইউনিটে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করা সম্ভব হবে, যা শহরের ব্যস্ত মানুষ থেকে শুরু করে দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও বড় স্বস্তি এনে দেবে।এই নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর, গ্রাহক আইডি, স্মার্ট কার্ড বা ওটিপি-ভিত্তিক যাচাইকরণের মাধ্যমে মেশিনে লগইন করতে হবে, লগইন সম্পন্ন হলেই নির্দিষ্ট সিলিন্ডারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে আসবে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হবে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল, বিশেষ করে রাতবিরেতে হঠাৎ গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যার ক্ষেত্রে এই পরিষেবা কার্যত ‘লাইফসেভার’ হিসেবে কাজ করবে, যা এতদিন সাধারণ মানুষের কাছে বড় ভোগান্তির কারণ ছিল, অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বিকল্প জ্বালানির উপর নির্ভর করতে হত—সেই সমস্যারই আধুনিক সমাধান হতে চলেছে এই এলপিজি এটিএম।সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি বড় শহর, শিল্পাঞ্চল এবং জনবহুল এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই এলপিজি এটিএম বসানো হয়েছে এবং সেখানে গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে, ব্যবহারকারীরা দ্রুত পরিষেবা, সহজ প্রক্রিয়া এবং অপেক্ষাহীন সুবিধাকে স্বাগত জানিয়েছেন, ফলে ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত এলাকায় এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মেট্রো শহরের পাশাপাশি জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে শুধু গ্রাহকদের সুবিধাই বাড়বে না, বরং গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটাই ডিজিটাল হওয়ায় কোথায় কত সিলিন্ডার বিতরণ হচ্ছে তার নির্ভুল হিসাব রাখা সহজ হবে, ফলে কালোবাজারি, অতিরিক্ত দামের অভিযোগ বা ডেলিভারিতে অনিয়মের মতো সমস্যাও কমে আসতে পারে, একইসঙ্গে রিয়েল-টাইম ডেটা মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলা সম্ভব হবে।এছাড়াও এই পরিষেবার মাধ্যমে ডেলিভারি কর্মীদের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে, ফলে গ্যাস সংস্থাগুলির অপারেশনাল খরচ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব গ্রাহকদের উপরও পড়তে পারে—ডেলিভারি চার্জ বা পরিষেবা খরচ কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, পাশাপাশি দ্রুত পরিষেবা পাওয়ার কারণে সময় বাঁচবে, যা আধুনিক জীবনযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।নিরাপত্তার দিক থেকেও এই ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি এলপিজি এটিএমে থাকবে উন্নত মানের সিসিটিভি নজরদারি, অটোমেটেড লকিং সিস্টেম, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা এবং গ্যাস লিক শনাক্ত করার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যাতে কোনওরকম দুর্ঘটনার আশঙ্কা এড়ানো যায়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ, সেফটি অডিট এবং সফটওয়্যার আপডেট নিশ্চিত করা হবে, ফলে গ্রাহকরা নিরাপদে এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।সব মিলিয়ে, এলপিজি এটিএম পরিষেবা চালু হলে গ্যাস সংগ্রহের পুরো ব্যবস্থাটাই এক নতুন আধুনিক রূপ পাবে, যেখানে গ্রাহকদের সময় বাঁচবে, ঝামেলা কমবে এবং পরিষেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে, আর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাতেও একই ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, ফলে দেশের জ্বালানি পরিষেবা খাতে এটি এক বড়সড় পরিবর্তনের সূচনা বলেই ধরা হচ্ছে, যা ডিজিটাল ভারতের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।