পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের বড় বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে SIR ২০২৫ তালিকা। ঠিক কতজন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। কোথাও বলা হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ নাম বাদ পড়েছে, আবার অন্য সূত্রে সেই সংখ্যা ১৩ থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ও চূড়ান্ত কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি Election Commission of India বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, যার ফলে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।এই অনিশ্চয়তা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে সংখ্যা ব্যাখ্যা করছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে শাসকপক্ষের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার অংশ এবং এতে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। ফলে সংখ্যার এই ফারাক নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের অনিশ্চয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি সরাসরি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রকৃত ভোটাররা যদি তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে না পান, তাহলে ভোটদানের হার কমে যেতে পারে বা ভোটের দিনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় এই সমস্যার প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অনলাইন বা অফলাইন যাচাই প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা থাকায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তথ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।প্রশাসনের তরফে যদিও দাবি করা হয়েছে যে তালিকা হালনাগাদের কাজ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং তাতে ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সংখ্যাগত এই বড় ফারাক নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার অভাব প্রশ্ন তুলছে স্বচ্ছতা নিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশ না করা হলে এই বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে এবং তা সরাসরি নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে SIR তালিকা নিয়ে এই ধোঁয়াশা এখন রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়, রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে চাপানউতোর, আর প্রশাসনের উপর বাড়ছে স্বচ্ছতার দাবি। শেষ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত এই অনিশ্চয়তাই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।