বহরমপুরে ভোটের আগে ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগে তুঙ্গে বিতর্ক! মমতাকে নিশানা করে বিস্ফোরক দাবি অধীর চৌধুরীর, উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি

By,
Admin

ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহ যখন ক্রমেই তপ্ত হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় মুর্শিদাবাদের বহরমপুরকে ঘিরে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, যা ঘিরে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি, কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা Adhir Ranjan Chowdhury সরাসরি মুখ খুলে দাবি করেছেন যে আসন্ন নির্বাচনের আগে বহরমপুরে রাজনৈতিক অন্দরে তৈরি হচ্ছে এক ‘গোপন সমঝোতা’, যা প্রকাশ্যে না এলেও ভিতরে ভিতরে প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের ফলাফলে, তাঁর অভিযোগের নিশানায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee, যাঁর বিরুদ্ধে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় বলেন, বাইরে থেকে বিরোধিতার চিত্র তুলে ধরা হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্ক একেবারেই ভিন্ন, অধীরের কথায়, “রাজনীতিতে যা দেখা যায়, সবটাই সত্যি নয়, পর্দার আড়ালে অন্য খেলা চলে,” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা, বিশেষ করে বহরমপুরের মতো কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে এমন অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে নির্বাচনী লড়াইয়ে।অধীর চৌধুরীর আরও দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে এক ধরনের নীরব বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, যার ফলে ভোটের আগে প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে সাধারণ মানুষের মধ্যে, তাঁর মতে, এই ধরনের ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় এবং ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল, যদিও তিনি সরাসরি কোনও প্রমাণ সামনে আনেননি, তবুও তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক চাপানউতোরকে অনেকটাই উসকে দিয়েছে।অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, দলীয় নেতাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য, ভোটের আগে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাঁদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস নিজের শক্তির উপর ভর করেই নির্বাচনে লড়াই করছে এবং কোনও গোপন সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না, পাশাপাশি তাঁরা পাল্টা কংগ্রেসকেই নিশানা করে বলেছেন, সংগঠনগত দুর্বলতা ঢাকতেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বহরমপুরে দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের শক্তিশালী উপস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এলাকাটির রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে, ফলে ভোটের আগে নানা জল্পনা, গুঞ্জন এবং অভিযোগের আবির্ভাব হওয়া অস্বাভাবিক নয়, বরং এটিই নির্বাচনী রাজনীতির স্বাভাবিক ছবি, যেখানে প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করতে নানা কৌশল গ্রহণ করে।এদিকে বিজেপিও এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে ময়দানে নেমে পড়েছে, তাদের দাবি, বিরোধী শিবিরের ভেতরের দ্বিচারিতা এবং গোপন সমঝোতার রাজনীতি এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে, যা সাধারণ মানুষের সামনে রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছে, ফলে বহরমপুর এখন কার্যত রাজ্যের অন্যতম ‘হটস্পট’, যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক মন্তব্য, পাল্টা মন্তব্য এবং অভিযোগ-প্রতিআভিযোগ মুহূর্তের মধ্যে উত্তাপ বাড়িয়ে তুলছে।সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বহরমপুরে ‘গোপন ডিল’ ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি কেন্দ্রিক ইস্যু হয়ে থাকছে না, বরং তা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্রকেই প্রভাবিত করছে, এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগ কতটা বাস্তবের মাটি পায়, আর কতটা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হয়ে থেকেই যায়, তবে একথা নিশ্চিত, ভোটের আগে এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনীতির পারদ আরও চড়াবে এবং নজর কাড়বে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের।

সাম্প্রতিক খবর
মঙ্গলবার ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ, একাধিক জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
“বাবাদেরও চাই অধিকার” — পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার দাবি সংসদে
“নকশালমুক্ত ভারত” লক্ষ্যে আরও এক ধাপ, কাঙ্কেরে আত্মসমর্পণ দুই মাওবাদীর
‘অজুহাত’ শুধু ছেলেকে সময় দেওয়ার, আবেগঘন চিঠিতে রাহুল