দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন জগতে এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মতবিরোধ নিয়ে আলোচনা চলেছে। নানা ঘটনা, মন্তব্য এবং ভক্তদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সেই রেষারেষি বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এবার সেই অধ্যায়ে ইতি টানার ইঙ্গিত দিলেন শিল্পী নিজেই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে কোনও বিদ্বেষ নেই, বরং তিনি বিশ্বাস করেন ক্ষমা ও এগিয়ে যাওয়ায়।শিল্পীর কথায়, তিনি চেয়েছিলেন কিছু বিষয় ভুলে যেতে, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ভুলেও গিয়েছেন। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা মনে পুষে রাখার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই। বিশেষ করে রূপমের জন্মদিনের মতো শুভ ও আবেগঘন দিনে পুরনো বিতর্ক টেনে আনার অর্থ নেই বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন মুহূর্তে স্মরণ করা উচিত শিল্পীর সৃষ্টিশীলতা, গান এবং সাংস্কৃতিক অবদান—অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক নয়।এই মন্তব্যের মাধ্যমে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ পরিণত হয় এবং দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন ঘটে। এক সময় যে বিষয়গুলো খুব বড় মনে হত, আজ সেগুলোর গুরুত্ব অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। তাঁর বিশ্বাস, ক্ষমা করা মানে শুধু অন্যকে মুক্তি দেওয়া নয়, নিজেকেও মানসিক শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই অতীতের ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে সামনে এগোনোই বুদ্ধিমানের।তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাস্তবে শিল্পীদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেকটাই শান্ত ও পেশাদার। যত উত্তেজনা দেখা যায়, তার বড় অংশই তৈরি হয় ভক্তদের আবেগ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আবেগ অনেক সময় ভুল বার্তা ছড়ায় এবং অকারণ সংঘাত তৈরি করে। অথচ শিল্পীরা নিজেরা মূলত কাজ ও সৃষ্টিশীলতাকেই প্রাধান্য দেন।রূপমের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দেওয়া এই বার্তা ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এই মনোভাব শুধু বিনোদন জগতেই নয়, সমাজের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, তবে সৌহার্দ্য, ক্ষমা ও পারস্পরিক সম্মানই শেষ পর্যন্ত মানুষকে বড় করে তোলে।