কিডনি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও লক্ষণ প্রদর্শন করে না। অনেক সময় মানুষ শরীরের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলোকে সাময়িক অসুবিধা বা ক্লান্তি হিসেবে উপেক্ষা করে। কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা– কিছু ছোট উপসর্গও হতে পারে মারাত্মক কিডনি ক্যান্সারের প্রথম ইঙ্গিত।ডাক্তারদের মতে, কিডনি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়শই সাধারণ স্বাস্থ্যের সমস্যা বা অস্বস্তির সঙ্গে মিলিয়ে ভুলে যাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিচের যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে:প্রস্রাবে রক্ত দেখা বা রঙের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকোমরের পাশে হঠাৎ বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাপ্রস্রাবের পরিমাণ বা ঘনত্বের হঠাৎ পরিবর্তনরাতে বেশি প্রস্রাব হওয়া বা অনিয়মিত প্রস্রাবহঠাৎ ওজন কমে যাওয়াদীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অজানা দুর্বলতাশরীরে ফোলা বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টযদিও এই উপসর্গগুলো অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে মিলেও যেতে পারে, চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন যে এগুলোকে অবহেলা করলে কিডনি ক্যান্সার অগ্রসর হয়ে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করলে কিডনি ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং রোগীর জীবনমান অনেকাংশে রক্ষা করা যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রস্রাবের স্বাভাবিক রঙ ও ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ এবং শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রতি সতর্ক থাকা অপরিহার্য।চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ:৪০ বছরের বেশি বয়সীদের নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত।প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন, কোমরের ব্যথা বা হঠাৎ ওজন কমলে অবিলম্বে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।জীবনযাপন স্বাস্থ্যকর রাখুন; যথেষ্ট পানি পান করুন, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।সারসংক্ষেপে, কিডনি ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে চুপচাপ থাকে, কিন্তু সামান্য উপসর্গও বড় সংকেত হতে পারে। তাই শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের প্রতি সজাগ থাকা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।