মাতৃত্বে নিখুঁত নয়, সচেতন হওয়াই আসল! সদ্‌গুরুর কথায় নতুন দিশা খুঁজে পেলেন Alia Bhatt

By,
Admin

মা হওয়া শুধু একটি সম্পর্ক নয়—এটি এক গভীর, আবেগঘন এবং আত্মিক যাত্রা। আর সেই যাত্রার প্রতিটি ধাপে থাকে দায়িত্ব, দোলাচল, আনন্দ আর আত্ম-অনুসন্ধান। বলিউড অভিনেত্রী Alia Bhatt-এর সাম্প্রতিক এক আলোচনায় এই অনুভূতিই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আধ্যাত্মিক গুরু Sadhguru-র সঙ্গে এক খোলামেলা কথোপকথনে তিনি তুলে ধরেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—“ভাল মা হওয়া কীভাবে সম্ভব?” আর এই প্রশ্নই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়, ছুঁয়ে যায় অসংখ্য মনের ভিতর।আলোচনার শুরুতেই আলিয়া অকপটে স্বীকার করেন, মা হওয়ার পর তাঁর জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। পেশাগত ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত সময় এবং সন্তানের যত্ন—এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে অনেক সময়ই তিনি দ্বিধায় ভোগেন। কখনও মনে হয় তিনি ঠিক মতো সবকিছু সামলাতে পারছেন না, কখনও আবার নিজেকেই প্রশ্ন করেন—তিনি কি যথেষ্ট ভালো মা? এই আত্মসংশয়ই তাঁকে পৌঁছে দেয় Sadhguru-র কাছে।সদ্‌গুরুর উত্তর ছিল সহজ অথচ গভীর। তাঁর মতে, ‘ভাল মা’ হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই, আর সেই সংজ্ঞা খুঁজতে যাওয়াটাই অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। তিনি বলেন, সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সচেতন উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি জরুরি। সন্তানকে নিজের মতো করে বড় হতে দেওয়া, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো—এই তিনটি দিকই একজন মায়ের ভূমিকার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।শুধু সন্তানের যত্ন নয়, মায়ের নিজের মানসিক অবস্থার উপরও জোর দেন সদ্‌গুরু। তাঁর মতে, একজন মা যদি নিজের ভিতরে শান্ত, স্থির এবং আনন্দে থাকতে পারেন, তাহলে সেই ইতিবাচক শক্তিই সন্তানের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। অর্থাৎ, ‘নিজেকে ভালো রাখা’—এটাও মাতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এই কথাগুলি আলিয়ার মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তিনি জানান, এতদিন তিনি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন—সবকিছু ঠিকঠাক করার চাপ নিজের উপর নিয়েছিলেন। কিন্তু সদ্‌গুরুর কথায় তিনি বুঝতে পেরেছেন, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে ‘সচেতন’ এবং ‘সংবেদনশীল’ হওয়াটাই অনেক বেশি জরুরি। এই উপলব্ধি তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলেও জানান অভিনেত্রী।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আলোচনা প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য মানুষ, বিশেষ করে নতুন মা-বাবারা, এই কথোপকথনের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে যেখানে নিখুঁত হওয়ার চাপ সবসময় কাজ করে, সেখানে এই ধরনের বাস্তব ও মানবিক পরামর্শ সত্যিই স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দেয়।আজকের দিনে মাতৃত্ব কিংবা পিতৃত্ব যেন অনেকটাই ‘পারফেকশন’-এর দৌড়ে পরিণত হয়েছে—সন্তানের জন্য সেরা সবকিছু দেওয়ার চেষ্টায় অনেক সময় নিজেদের উপরই চাপ বাড়িয়ে ফেলেন অভিভাবকেরা। সেই প্রেক্ষাপটে Alia Bhatt ও Sadhguru-র এই কথোপকথন এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—সন্তানকে ভালোবাসা, বোঝা এবং তার পাশে থাকা—এই সহজ বিষয়গুলিই আসলে সবচেয়ে বড়।সব মিলিয়ে, এক সাধারণ প্রশ্ন থেকেই উঠে এল অসাধারণ কিছু ভাবনা। এটি শুধু একজন তারকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং আজকের প্রজন্মের বহু মা-বাবার জন্য এক বাস্তবসম্মত দিশা। নিখুঁত হওয়ার চাপ ছেড়ে দিয়ে, সচেতনতা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি সুস্থ, সুন্দর সম্পর্ক—এই বার্তাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন আলিয়া ও সদ্‌গুরু।

সাম্প্রতিক খবর
ভোটে সিভিক ভলান্টিয়ার নয়: নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন কড়া নির্দেশ কমিশনের
১ এপ্রিল থেকে বড়সড় পরিবর্তন! ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নিয়ম, চাপ বাড়বে নাকি স্বস্তি?
পশ্চিম এশিয়ায় ত্রিপোলি ঘিরে উত্তেজনা: স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে
কুৎসার ছায়ায়ও অটল: নির্যাতিতার পরিবার থামছে না, ন্যায়ের লড়াইয়ে স্থির প্রতিজ্ঞা