সারা বছর জুড়ে ভারতীয় বক্স অফিসে টলিউড ও বলিউডের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি হয়েছে। কখনও আঞ্চলিক ছবির শক্তিশালী গল্প দর্শকের মন জয় করেছে, আবার কখনও বড় তারকার উপস্থিতিতে হিন্দি সিনেমা জাতীয় স্তরে আলোড়ন তুলেছে। চলতি বছরের শেষ লগ্নে এসে সেই লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে টলিউডের আবেগঘন ছবি ‘টনিক’, অন্যদিকে বছরের শেষে বলিউডের ‘কিং’-এর জাঁকজমকপূর্ণ কামব্যাক। দুই ইন্ডাস্ট্রিই দর্শকদের জন্য বড় চমক নিয়ে হাজির।‘টনিক’ বাঙালি দর্শকের কাছে শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, বরং আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। পারিবারিক সম্পর্ক, প্রজন্মের ব্যবধান, ভুল বোঝাবুঝি এবং ভালোবাসার গল্প ছবিটিকে বিশেষভাবে আলাদা করেছে। সাধারণ জীবনের অনুভূতিগুলিকে সহজভাবে পর্দায় তুলে ধরে ছবিটি দর্শকের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। বড় বাজেট বা অতিরিক্ত চাকচিক্য ছাড়াও যে ভালো গল্প দর্শকের হৃদয় জয় করতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করেছে টলিউড। বক্স অফিসে ছবিটির সাফল্য সেই কথাই স্পষ্টভাবে বলছে।ঠিক এই সময়েই বলিউড নিয়ে আসছে বছরের শেষ বড় আকর্ষণ। দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফিরছেন বলিউডের জনপ্রিয় ‘কিং’। তাঁর প্রত্যাবর্তন মানেই শুধু একটি নতুন ছবি নয়, বরং এক ধরনের উৎসব। অ্যাকশন, আবেগ, গান এবং তারকা-মহিমার মিশেলে তৈরি এই ছবি নিয়ে অনুরাগীদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে এই কামব্যাককে বছরের অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।এই দুই ছবিকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে টলিউড বনাম বলিউড বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন, আঞ্চলিক সিনেমা এখন গল্পের জোরে জাতীয় স্তরে সমান প্রভাব ফেলছে। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, বলিউডের বিশাল ক্যানভাস ও তারকাখ্যাতির আবেদন এখনও আলাদা গুরুত্ব বহন করে।সব মিলিয়ে, বছরের শেষটা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য হতে চলেছে দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ। আবেগের জোরে ‘টনিক’-এর সাফল্য এবং রাজকীয় স্টাইলে বলিউড ‘কিং’-এর প্রত্যাবর্তন—এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কাকে এগিয়ে রাখবেন দর্শকরা, সেটাই এখন দেখার।