নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান, আর সেই আবহেই পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুরে জোড়া জনসভা করে নিজের রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠনের বার্তা জোরালভাবে তুলে ধরলেন Mamata Banerjee, দিনের প্রথম সভা পাণ্ডবেশ্বরে, যেখানে শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান, খনি এলাকার আধুনিকীকরণ, রাস্তা-পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন তিনি, বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে তাঁর সরকার শিল্প ও শ্রম—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনেও এই উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে, পাশাপাশি বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ তোলেন যে বাইরে থেকে এসে বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যা বাংলার মানুষ কখনও মেনে নেবে না,এরপর বিকেলে দুবরাজপুরের সভায় আরও তীব্র ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক সুরে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গ্রামীণ বাংলার উন্নয়ন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারই প্রকৃত অর্থে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে, একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন প্রচার’ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন, এবং সংগঠনকে আরও মজবুত করতে বুথস্তর পর্যন্ত সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন,দুটি সভাতেই উপচে পড়া জনসমাগম নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের, বিশ্লেষকদের মতে এই ভিড় শুধুমাত্র জনসমর্থনের ইঙ্গিত নয়, বরং তৃণমূলের সংগঠনগত শক্তি ও মাটির স্তরে তাদের প্রভাবেরই প্রতিফলন, বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল পাণ্ডবেশ্বর থেকে শুরু করে গ্রামীণ দুবরাজপুর—দুই ভিন্ন ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিসরে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালানো যে শাসকদলের সুপরিকল্পিত নির্বাচনী কৌশলের অংশ, তা এই জোড়া সভা থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে,এছাড়াও নিজের ভাষণে বারবার ‘উন্নয়ন বনাম বিভাজনের রাজনীতি’ প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর লড়াই কোনও ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যের মানুষই এবং তাঁদের রায়ই হবে শেষ কথা,সব মিলিয়ে পাণ্ডবেশ্বর ও দুবরাজপুরের এই জোড়া জনসভা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শন, বার্তা দেওয়া এবং সংগঠনকে চাঙ্গা করার এক বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে এবং নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।