বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতেই নজিরবিহীন ধাক্কা খেল দেশের শেয়ারবাজার। বাজার খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ২০০০ পয়েন্ট ভেঙে পড়ে BSE Sensex, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ইন্ট্রাডে পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে বড় ধাক্কা খায় Nifty 50-ও, দিনের শুরু থেকেই সর্বত্র লাল সিগন্যাল দেখা যায়, ব্যাংকিং, আইটি, অটো, ধাতু ও রিয়েলটি—প্রায় সমস্ত খাতেই প্রথম সারির শেয়ারগুলিতে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে বড় ক্যাপ সংস্থাগুলির শেয়ারে হুড়োহুড়ি বিক্রি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, যার জেরে বাজারে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছয়প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই আকস্মিক ধসের ফলে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বাজার মূলধন মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়, যা বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। শুধু বড় শেয়ারই নয়, মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকগুলিতেও ভয়াবহ পতন লক্ষ্য করা যায়, ফলে গোটা বাজার জুড়েই বিক্রির ঝড় বয়ে যায়। অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়ে তড়িঘড়ি পজিশন কাটতে শুরু করেন, যার ফলে পতনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে ।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধসের পেছনে একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve-এর সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করেছে, এর সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাকে দুর্বল করে দিয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) টানা বিক্রি বাজারে তারল্যের সংকট তৈরি করেছে, যা পতনকে আরও গভীর করেছে।বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই পতন আংশিকভাবে একটি ‘কারেকশন’, কারণ দীর্ঘদিন ধরে বাজারে টানা উত্থানের পর এমন সংশোধন স্বাভাবিক, তবে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্ক করছেন তাঁরা, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধীরে-সুস্থে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সুযোগও হয়ে উঠতে পারে বলে মত কিছু বিশেষজ্ঞের।সামগ্রিকভাবে, দিনের শুরুতেই এমন ভয়াবহ ধস গোটা বাজারের মনোভাবে বড় ধাক্কা দিয়েছে, এখন নজর থাকবে দিনের বাকি সময় বাজার কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর, কারণ এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার উপরও পড়তে পারে।