জ্ঞানেশকে টক্কর দিতে তরুণ তাস! যাদবপুরের আফরিনকে ঘিরে সিপিএমে জোর জল্পনা, বদলাচ্ছে নির্বাচনী কৌশল

By,
Admin

জ্ঞানেশের মোকাবিলায় রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে দিতে এবার তরুণ প্রজন্মের উপর বড় বাজি ধরতে চলেছে Communist Party of India (Marxist)। সেই কারণেই Jadavpur University-এর ছাত্রী আফরিনকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার ভাবনা ঘিরে বাম শিবিরে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় আফরিন ক্যাম্পাসের একাধিক ইস্যুতে সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন সংগঠিত করেছেন এবং তাঁর ধারালো বক্তব্য, স্পষ্ট অবস্থান ও সংগঠনের প্রতি আনুগত্য খুব অল্প সময়েই নেতৃত্বের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে জ্ঞানেশ ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাঁর সরাসরি অবস্থান এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে আলিমুদ্দিনের নেতৃত্ব। ফলে তাঁকে সামনে এনে একদিকে যেমন তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে, তেমনই সংগঠনের ভিতরে নতুন উদ্যম সঞ্চার করাও দলের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।বাম নেতৃত্বের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখের উপর নির্ভরতার বদলে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনা এখন সময়ের দাবি। আফরিনের মতো তরুণ মুখকে প্রার্থী করলে ভোটের লড়াইয়ে আলাদা বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে এবং সেই বার্তার মাধ্যমে শহুরে শিক্ষিত যুব সমাজের মধ্যে নতুন করে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে দল। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে নিজেদের ভিত্তি শক্ত করতে মরিয়া সিপিএম, আর সেই কারণেই যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন থেকে উঠে আসা এক তরুণ মুখকে সামনে আনা তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য কেন্দ্রেও একই ধরনের পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে।তবে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে কটাক্ষ শুরু করেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তব রাজনৈতিক দক্ষতার অভাব থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রচারের আলো কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যদিও বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মকে জায়গা করে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দল নিজেদের কৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।এদিকে Jadavpur University চত্বরে ইতিমধ্যেই এই খবর ঘিরে চর্চা তুঙ্গে। সহপাঠীদের একাংশের মতে, আফরিন বরাবরই স্পষ্টভাষী এবং প্রতিবাদী মনোভাবের জন্য পরিচিত, ফলে বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চেও তিনি একইভাবে সোচ্চার ভূমিকা নিতে পারেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে সরাসরি মূলধারার নির্বাচনী রাজনীতিতে পা রাখা সহজ নয়—সেখানে সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসংযোগ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই আফরিনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই জল্পনা সিপিএমের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর একটাই—দল শেষ পর্যন্ত এই তরুণ মুখের উপর ভরসা রাখে কিনা এবং জ্ঞানেশের মতো অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে এই নতুন সমীকরণ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক মহল অপেক্ষায় রয়েছে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের, যা এই লড়াইয়ের রূপরেখা অনেকটাই বদলে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক খবর
পদ্মায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: মৃত অন্তত ১৬, নিখোঁজদের খোঁজে রাতভর অভিযান
ভোটের আগে SIR তালিকা ঘিরে তুমুল ধোঁয়াশা, ৮ না ১৪ লাখ—সংখ্যা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক ও উদ্বেগ
২৫ দিনের মধ্যে গ্যাস বুকিং বাধ্যতামূলক, নতুন নিয়মে কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র
২৬ মার্চের রাশিফল: সাফল্য, অর্থলাভ না সতর্কতা—আজ কোন রাশির জন্য কী বার্তা দিচ্ছে নক্ষত্র?