অতিরিক্ত গ্যাস বুকিংয়ে লাগাম, ২৫ দিনের বদলে ৩৫ দিন—এলপিজি নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের.

By,
Admin

রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের উপর। এতদিন একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির পর নতুন করে বুকিং করার জন্য যেখানে ন্যূনতম ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হত, সেখানে এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩৫ দিন করা হয়েছে। মূলত অতিরিক্ত বুকিং, মজুতদারি এবং কালোবাজারির মতো বেআইনি প্রবণতা রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযোগ আসছিল, অনেক গ্রাহক নিয়মের ফাঁক গলে একাধিক সিলিন্ডার বুক করে রাখছেন, যা প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও আধা-শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছিল বলে দাবি প্রশাসনের। ফলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হচ্ছিল এবং কালোবাজারিতে গ্যাস বিক্রির প্রবণতাও বাড়ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিলিন্ডার ডেলিভারি নেওয়ার পর অন্তত ৩৫ দিন না পেরোলে গ্রাহক আরেকটি সিলিন্ডারের জন্য বুকিং করতে পারবেন না। এতে অপ্রয়োজনীয় মজুত অনেকটাই কমবে এবং সঠিকভাবে সাপ্লাই চেইন পরিচালনা করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। পাশাপাশি, এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে সময়মতো সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য।তবে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বড় পরিবার বা যেখানে গ্যাসের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি, সেখানে ৩৫ দিনের ব্যবধান কিছুটা সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে প্রতিদিন একাধিকবার রান্না হয়, তাদের জন্য এই নিয়ম মানা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।এই উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই সরকার জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যেমন—বাণিজ্যিক ব্যবহারকারী বা বড় পরিবারের জন্য আলাদা নীতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত সিলিন্ডার পাওয়ার ব্যবস্থাও ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করা হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করে তুলবে। কালোবাজারি কমবে, অপচয় রোধ হবে এবং প্রকৃত গ্রাহকের কাছে সঠিক সময়ে গ্যাস পৌঁছানো সহজ হবে। সব মিলিয়ে, এলপিজি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক খবর
পাণ্ডবেশ্বর-দুবরাজপুরে জোড়া জনসভায় মমতার ঝড়, উন্নয়ন বনাম বিভাজনের বার্তায় চড়ল নির্বাচনী পারদ
তিনশো বছরের ঐতিহ্য, ভিন্ন প্রতিমা আর মাছ ভোগে নজর কাড়ছে রাজপুরের বাসন্তী পুজো
অজানা রাসায়নিক ভর্তি জারে আগুন, বর্ধমান-কাটোয়া সড়কের ধারে আতঙ্ক
সূর্যের মেষে প্রবেশে বদলাবে ভাগ্যচক্র! প্রমোশন, বেতনবৃদ্ধি ও সাফল্যের জোয়ার—এই ৪ রাশির জীবনে বড় মোড়